Qazi Akash Logo
কাজী আকাশ

'অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে' মুভির ট্রেলার এসেছে, কিন্তু নেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি

কাজী আকাশ•২৩ জুলাই, ২০২৬•৪ মিনিট

গত এক দশক ধরে মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স আমাদের কোথায় কোথায় নিয়ে গেছে, ভাবুন তো! মহাকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছি আমরা। কিন্তু গতকাল যখন বহু প্রতীক্ষিত অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমেসডে মুভির প্রথম ট্রেলারটি রিলিজ হলো, তখন দারুণ সব সুপারহিরো, বড় বড় চমক এবং ডক্টর ডুমের প্রথম ঝলক দেখে চোখ জুড়িয়ে গেলেও, একটা জিনিস কি আপনার কাছে মিসিং মনে হয়নি?

'অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে' মুভির ট্রেলারের একটি দৃশ্য

মহাকাশের কথা বলছি। সেই ইনফিনিটি স্টোন সাগা শুরু হওয়ার পর থেকে মহাকাশ ছিল মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের (এমসিইউ) অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এবারের ট্রেলারে সেই চিরচেনা মহাকাশীয় বিষয়গুলোর বড্ড অভাব চোখে পড়ল।

কেন এমন হলো, তা একটু বোঝার চেষ্টা করি। এ জন্য একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে। গত এক দশকে এমসিইউ কিন্তু পুরোপুরি সায়েন্স ফিকশনের ওপর ভর করেই এগিয়েছে। গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি বা ক্যাপ্টেন মার্ভেল এর মতো মুভিগুলো আমাদের মহাকাশের বিশালত্ব চিনিয়েছে। থানোসের সেই মহাবিশ্বের ভারসাম্য রক্ষার লড়াই, পুরোটাই তো ছিল মহাকাশ-নির্ভর! পুরো মুভির পটভূমি মহাকাশে তৈরি হয়েছে, বড় বড় সব পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে স্পেসশিপের ভেতরে বসে। ভিনগ্রহের হিরো ও ভিলেনরা কাল্পনিক সব গ্রহে ঘুরে বেড়িয়েছেন, এমনকি ইটারনালস-এ আমরা মৃত এক বিশাল স্পেস জায়ান্টের মাথার খুলির ভেতরেও জীবনযাত্রা দেখেছি!

অর্থাৎ, মার্ভেলের মুভি মানেই ছিল মহাকাশ নিয়ে এক বিশাল কারবার। কিন্তু অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমেসডে-এর ট্রেলার দেখে মনে হচ্ছে, সেই যুগের হয়তো এবার অবসান হতে চলেছে। ট্রেলারে পৃথিবীর ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। যদিও এমসিইউতে কল্পবিজ্ঞানের কিছু ছোঁয়া এখনো আছে— সুপারহিরো কমিক্সে এটি থাকাটাই স্বাভাবিক—কিন্তু সেই মহাকাশ-কেন্দ্রিক ফোকাসটা এবার আর নেই। বিশাল মহাবিশ্বের ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে এবারের গল্পটা পুরোপুরি পৃথিবী এবং এর সুপারহিরোদের ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।

তাহলে কোথায় গেল ভিনগ্রহের হিরোরা? ট্রেলারের শুরুতেই অবশ্য ফ্যান্টাস্টিক ফোরকে তাদের স্পেসশিপ থেকে বের হতে দেখা যায়। হয়তো এটি ইচ্ছাকৃত কোনো রূপক নয়, কিন্তু দেখলে মনে হয় এমসিইউ যেন সত্যিই মহাজাগতিক দুনিয়াকে বিদায় জানাচ্ছে! এরপর পুরো ট্রেলারেই আমরা মূলত পৃথিবীতেই আটকে থাকি।

'অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে' মুভির দৃশ্য
'অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে' মুভির ট্রেলারের একটি দৃশ্য

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, থর ছাড়া এই ট্রেলারে ভিনগ্রহের আর কোনো হিরোকে আমরা স্ক্রিনে দেখতে পাইনি। আর আমাদের মূল ভিলেন ডক্টর ডুম—যাঁর মুখোশের আড়ালে আছেন খোদ রবার্ট ডাউনি জুনিয়র—তিনি অন্য কোনো মাল্টিভার্স থেকে এলেও, তাঁর পুরো উপস্থিতি কিন্তু পৃথিবীকেন্দ্রিক।

এখন প্রশ্ন হলো, মহাকাশ থেকে কেন সরে আসছে মার্ভেল? এর বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, এক্স-মেন টিমের সব চরিত্রকে নিয়ে আসার পর পৃথিবীতেই গল্প সাজানোর জন্য এখন প্রচুর উপাদান আছে। দ্বিতীয়ত, টাইম ট্রাভেল, কোয়ান্টাম রিয়েলম বা মাল্টিভার্সের মতো কনসেপ্টগুলো যখন আপনার হাতে আছে, তখন মহাবিশ্বকে বড় করার জন্য আর স্পেস ট্রাভেলের খুব একটা দরকার পড়ে না।

অবশ্য আপনি বলতেই পারেন যে, এগুলোও তো একধরনের কল্পবিজ্ঞান! কথা সত্য, কিন্তু মহাকাশের সেই বিস্তৃতির সঙ্গে এর তুলনা চলে না। কাস্টিং লিস্ট দেখে আমরা হয়তো জানি যে মহাকাশভিত্তিক কিছু প্রিয় হিরো আবার ফিরে আসবে, কিন্তু এটা স্পষ্ট যে, মহাকাশ এখন আর গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে নেই। থানোসের পতনের পর থেকেই এমসিইউ ধীরে ধীরে মহাকাশ থেকে নিজেদের গুটিয়ে আনছিল, আর অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমেসডে-এর এই নতুন ট্রেলারটি যেন সেই কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিল।

তবে মার্ভেল সব সময়ই দর্শকদের বোকা বানাতে ও ট্রেলারে ভুল পথে চালিত করতে ওস্তাদ! তাই মুভিটি রিলিজ হওয়ার আগে জোর দিয়ে কিছু বলার উপায় নেউ। আরও নতুন তথ্য আসার পর হয়তো পুরো ধারণাই পাল্টে যেতে পারে। তবে আপাতত দেখে মনে হচ্ছে, মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স এখন আর ইউনিভার্সের বিশালতা নিয়ে খুব একটা আগ্রহী নয়।

আগামী ১৮ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তুলতে আসছে অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমেসডে। সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটতে অন্তত সেদিন পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতেই হচ্ছে!

আপনার মতামত জানান

মন্তব্যসমূহ

লগইন করা ব্যবহারকারীরা এই ব্লগে মন্তব্য করতে পারবেন।

লোড হচ্ছে
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।