Qazi Akash Logo
কাজী আকাশ

দুই দেশের হয়ে টেস্ট খেলেছেন যেসব ক্রিকেটার

কাজী আকাশ•২৯ জুলাই, ২০২৬•৪ মিনিট

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজ দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই সবচেয়ে বড় স্বপ্নের জায়গা। আর সেই স্বপ্ন যদি দুই দেশের হয়ে সত্যি হয়? ক্রিকেট ইতিহাসে এমন কিছু অদ্ভুত এবং বিরল ঘটনা রয়েছে, যেখানে খেলোয়াড়রা একটি নয়, বরং দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন।

মোট ১৭ জন ক্রিকেটার দুই দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন

কিন্তু এমন কি কোনো ক্রিকেটার আছেন, যিনি তার ক্যারিয়ারে ঠিক দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন, যার একটি এক দেশের হয়ে এবং অন্যটি আরেক দেশের হয়ে? এর নিখুঁত উত্তর হলো—না। ঠিক ১+১ সমীকরণের কোনো ঘটনার সাক্ষী ক্রিকেট বিশ্ব আজ পর্যন্ত হয়নি। তবে দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে টেস্ট খেলেছেন, এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা কিন্তু একেবারে কম নয়। ক্রিকেট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মোট ১৭ জন পুরুষ ক্রিকেটার দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে টেস্ট ম্যাচ খেলার এই বিরল গৌরব অর্জন করেছেন। চলুন, তাঁদের নিয়ে কিছু চমকপ্রদ পরিসংখ্যান জেনে নিই।

**** 

বয়েড র‍্যাংকিন

বয়েড র‍্যাংকিন আইরিশ ফাস্ট বোলার। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার এই পেসার তাঁর ক্যারিয়ারে মোট টেস্ট খেলেছেন মাত্র ৩টি! ২০১৩-১৪ সালের অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনি টেস্টে ইংল্যান্ডের হয়ে তার টেস্ট অভিষেক হয়। কিন্তু সেখানে থিতু হতে না পেরে তিনি আবারও শেকড়ের টানে আয়ারল্যান্ডে ফিরে যান। ২০১৮ সালে আয়ারল্যান্ডের অভিষেক টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে তিনি দুই দেশের হয়ে টেস্ট খেলার অনন্য রেকর্ডে নাম লেখান। তিনি এখন পর্যন্ত তিন টেস্টে ইংল্যান্ডের হয়ে ১টি এবং আয়ারল্যান্ডের হয়ে ২টি ম্যাচ খেলেছেন।

**** 

আলবার্ট ট্রট ও ফ্রাঙ্ক মিচেল

আলবার্ট ট্রট এবং ফ্রাঙ্ক মিচেল নিজেদের ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে মাত্র ৫টি করে টেস্ট খেলেছেন। তবে তা দুটি ভিন্ন দেশের জার্সিতে। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার আলবার্ট ট্রট অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩টি এবং ইংল্যান্ডের হয়ে ২টি টেস্ট খেলেছিলেন। ক্রিকেট ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডের প্যাভিলিয়নের ছাদ পার করে বিশাল এক ছক্কা হাঁকানোর একমাত্র রেকর্ডটির জন্য। অন্যদিকে, ফ্রাঙ্ক মিচেল ইংল্যান্ডের হয়ে ২টি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩টি টেস্ট খেলেছিলেন।

**** 

কেপলার ওয়েসেলস

দুই দেশের হয়ে টেস্ট খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি কেপলার ওয়েসেলসের। বর্ণবাদ প্রথার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ, তখন ওয়েসেলস অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৪টি টেস্ট খেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন এবং প্রোটিয়াদের হয়ে আরও ১৬টি টেস্ট খেলেন। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রত্যাবর্তনের পর প্রথম টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্বও তিনিই পালন করেছিলেন। সব মিলিয়ে তার টেস্ট সংখ্যা ৪০।

**** 

ভারত-পাকিস্তান দেশভাগ এবং তিন ক্রিকেটারের গল্প

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর এমন তিনজন ক্রিকেটার ছিলেন, যারা ভারত এবং পাকিস্তান—উভয় দেশের হয়েই টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।

আবদুল হাফিজ কারদার: ভারতের হয়ে ৩টি টেস্ট খেলার পর তিনি পাকিস্তানের হয়ে ২৩টি টেস্ট খেলেন এবং পাকিস্তানের প্রথম নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে দারুণ সফলতা পান।

গুল মোহাম্মদ: ভারতের হয়ে ৮টি টেস্ট এবং পাকিস্তানের হয়ে ১টি টেস্ট খেলেন।

আমির ইলাহি: ভারতের হয়ে ১টি এবং পাকিস্তানের হয়ে ৫টি টেস্ট খেলেন।

 

এছাড়া ইফতিখার আলী খান পতৌদি ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি ইংল্যান্ড এবং ভারত দুই দেশের হয়েই টেস্ট খেলেছেন। ১৯৩২-৩৩ সালের বিখ্যাত বডিলাইন সিরিজে ইংল্যান্ডের হয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ১৯৪৬ সালে ভারতের অধিনায়ক হিসেবেও ইফতিখার আলী খান মাঠে নেমেছিলেন।

**** 

বিলি মিডউইন্টার থেকে গ্যারি ব্যালান্স

ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে দুই দেশের হয়ে টেস্ট খেলেছিলেন বিলি মিডউইন্টার। তিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৮টি এবং ইংল্যান্ডের হয়ে ৪টি টেস্ট খেলেন।

পরিসংখ্যানের খাতা ঘাঁটলে জন ট্রাইকোসের নামটাও দারুণ অবাক করে। ১৯৭০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩টি টেস্ট খেলার পর বর্ণবাদের কারণে দল নিষিদ্ধ হলে তার ক্যারিয়ার থমকে যায়। দীর্ঘ ২২ বছর পর ১৯৯২ সালে জিম্বাবুয়ের প্রথম টেস্ট ম্যাচে তিনি মাঠে নামেন!

এই তালিকায় সবচেয়ে সাম্প্রতিক সংযোজন হলেন গ্যারি ব্যালান্স। ইংল্যান্ডের হয়ে ২৩টি টেস্ট খেলার পর, ২০২৩ সালে তিনি তার জন্মভূমি জিম্বাবুয়ের হয়ে ১টি টেস্ট খেলেন এবং অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখান।

আপনার মতামত জানান

মন্তব্যসমূহ

লগইন করা ব্যবহারকারীরা এই ব্লগে মন্তব্য করতে পারবেন।

লোড হচ্ছে
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।