ব্রাজিল-জাপান, জার্মানি-প্যারাগুয়ে, নেদারল্যান্ডস-মরোক্কো—কারা যাবে পরের রাউণ্ডে
ব্রাজিল বনাম জাপান
খেলা শুরু: বাংলাদেশ সময় রাত ১টা

কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল এমনিতেই এই ম্যাচের ফেভারিট। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন জাপান, তখন হিসাবের খাতায় একটু কাটাকুটি করতেই হবে। আনচেলত্তির শিষ্যরা নিজেদের সেরাটা দিতে না পারলে বড় বিপদেই পড়তে পারে।
মরক্কোর সঙ্গে ১-১ ড্র করে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ব্রাজিল। তখন তাদের নিয়ে বেশ শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পরের দুই ম্যাচে তারা দারুণভাবে ফিরে এসেছে। কোচ আনচেলত্তি শুরুর একাদশে কিছু পরিবর্তন এনেছেন, যা জাদুমন্ত্রের মতো কাজ করেছে। ৯ নম্বর পজিশনে ম্যাথিউস কুনিয়াকে খেলানোর সিদ্ধান্তটি ছিল মাস্টারস্ট্রোক। প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে দুই ম্যাচেই তিনি তিন গোল করে ফেলেছেন। কুনিয়ার এই ফর্ম ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকেও যেন মুক্ত করে দিয়েছে। গ্রুপ পর্বেই চার গোল করে ভিনিসিয়ুস এখন আছেন দুর্দান্ত ছন্দে। পাশাপাশি হাফ টাইমের পরে নেইমার, মার্তিনিল্লিরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে এই দলটা অনেক দূর যাবে।
অন্যদিকে, জাপান এই টুর্নামেন্টে এসেছে ডার্ক হর্সের তকমা নিয়ে। ইদানীং বড় দলগুলোকে ভোগানোর একটা দারুণ অভ্যাস তৈরি করেছে তারা। রক্ষণভাগের জমাট বাঁধুনি আর বল পায়ে চমৎকার কারিকুরি—এই দুইয়ে মিলে জাপান বেশ ভয়ংকর। সুইডেনের বিপক্ষে দাইজেন মায়েদার করা গোলটি ছিল তাদের অসাধারণ দলীয় বোঝাপড়ার প্রমাণ। চোটের কারণে কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় না থাকলেও জাপানের বেঞ্চ বেশ শক্তিশালী। আপনি যদি আক্রমণাত্মক ও গতিশীল ফুটবলের ভক্ত হন, তবে এই লড়াই আপনাকে চোখ সরাতে দেবে না।
ব্যক্তিগত প্রেডিকশন
নির্দিষ্ট সময়ে ব্রাজিল এগিয়ে যাবে শেষ ১৬-তে। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। সেক্ষেত্রে ম্যাচ ড্র হলে পেনল্টিতে পেনাল্টিতে এগিয়ে যাবে ব্রাজিল। আমার চোখে, আজই এশিয়ান সেরা দলটির বিদায়ের ঘণ্টা বেজে যাবে।
ফলাফল: ব্রাজিল জয়ী
জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে
খেলা শুরু: বাংলাদেশ সময় রাত ২.৩০টা

শক্তির বিচারে জার্মানির অনায়াসেই জেতা উচিত। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে আন্ডারডগরা যেভাবে এলিটদের চোখে চোখ রেখে লড়ছে, তাতে নিশ্চিত করে কিছু বলার উপায় নেই। ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো নকআউটে উঠলেও জার্মানির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আপনাকে খুব একটা স্বস্তি দেবে না।
কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুরু করলেও, ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলের হার তাদের দুর্বলতাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কোচ হুলিয়ান নাগলসম্যানের দল ম্যাচের কিছু অংশে দারুণ খেললেও, অনেক সময়ই মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে। ডিফেন্স থেকে নিখুঁত পাস বাড়ানোর কারিগর নিকো শ্লোটারবেকের চোট জার্মানির আক্রমণ তৈরির কাজটা কঠিন করে দিয়েছে, একই সঙ্গে তাদের নড়বড়ে রক্ষণকে করেছে আরও দুর্বল।
প্যারাগুয়ের শুরুটা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলের হতাশাজনক হার দিয়ে। তবে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে তারা নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে লাল কার্ড দেখেছিলেন মিগুয়েল আলমিরন। এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে তিনি এই ম্যাচে ফিরছেন। ওই ম্যাচে একজন কম খেলেও দ্বিতীয়ার্ধে ১-০ ব্যবধান ধরে রেখেছিল প্যারাগুয়ে। পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও তারা কোনো গোল হজম করেনি। জার্মানির আক্রমণ ঠেকাতে প্যারাগুয়ের এই রক্ষণই হতে পারে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
****
ব্যক্তিগত প্রেডিকশন
জার্মানি নির্দিষ্ট সময়ের খেলায় এগিয়ে যাবে। তবে শুরুতেই জার্মানি ভুল খেললে ম্যাচ গড়াতে পারে অতিরিক্ত সময়ে। সেক্ষেত্রে পেনাল্টিতে এগিয়ে যাবে জার্মানি।
ফলাফল: জার্মানি জয়ী
নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো
খেলা শুরু: বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা

রাউন্ড অব ৩২-এর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটি। ডাচদের গোলবন্যা ও মরক্কোর সুযোগসন্ধানী ফুটবলের দারুণ এক প্রদর্শনী দেখার জন্য আপনি প্রস্তুত হতে পারেন।
জাপানের বিপক্ষে নিষ্প্রভ শুরুর পর সুইডেনকে ৫-১ ও তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে স্বরূপে ফিরেছে নেদারল্যান্ডস। কোচ রোনাল্ড কোমান শুরুর একাদশে ব্রায়ান ব্রোবেকে যুক্ত করার পর থেকেই দলের চেহারা বদলে গেছে। দুই ম্যাচে তিন গোল করে প্রতিপক্ষের সেন্টার-ব্যাকদের রীতিমতো ঘাম ছুটিয়ে দিচ্ছেন তিনি। ব্রোবের উপস্থিতিতে দলের বাকিরাও দারুণ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।
তবে মরক্কো একেবারেই সহজে ছাড় দেবে না। সি গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে তারা নকআউটে এসেছে। হাইতির বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ে তারা দেখিয়েছে, প্রয়োজনে ৬৯ শতাংশ বল দখলে রেখেও কীভাবে ধৈর্য ধরে ম্যাচ বের করে আনতে হয়। মরক্কোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় ইসমাইল সাইবারী। প্রথম আফ্রিকান হিসেবে এক বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তার পেছনে থাকা ব্রাহিম দিয়াজ প্রতিনিয়ত গোলের সুযোগ তৈরি করছেন। আর উইং ধরে আশরাফ হাকিমির গতির ঝড় তো প্রতিপক্ষের জন্য সব সময়ই আতঙ্কের।
দুই দলেরই দ্রুতলয়ে ম্যাচ শুরু করার অভ্যাস আছে। মরক্কো যেমন ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুতেই ঝড় তুলেছিল, ডাচরাও সুইডেন ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে একই কাজ করেছে। তাই এই ম্যাচে চোখের পলক ফেলার সুযোগ হয়তো আপনি খুব একটা পাবেন না।
ব্যক্তিগত প্রেডিকশন
ম্যাচটি প্রথম ৯০ মিনিটে ড্র থাকার সম্ভাবনা আছে। হয়তো অতিরিক্ত সময়ে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে যাবে। আবার ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে পেনাল্টি শুটআউটেও। সেক্ষেত্রেও রাউন্ড অব ১৬-এ উঠে যেতে পারে নেদারল্যান্ডস। অর্থাৎ, আমার চোখে আজই মরোক্কোর বিদায়ের ম্যাচ।
ফলাফল: নেদারল্যান্ডস জয়ী
আপনার মতামত জানান
সম্পর্কিত অন্যান্য লেখা
মন্তব্যসমূহ
লগইন করা ব্যবহারকারীরা এই ব্লগে মন্তব্য করতে পারবেন।



