Qazi Akash Logo
কাজী আকাশ

আনচেলত্তির শান্ত স্বভাবেই আত্মবিশ্বাস পেয়েছি: মার্তিনেল্লি

কাজী আকাশ১ জুলাই, ২০২৬৩ মিনিট

প্রথমার্ধের খেলা শেষ। স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে জাপান ১, ব্রাজিল ০। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচ, হারলেই সোজা বাড়ির টিকিট। এমন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে আপনি হয়তো ধরে নেবেন, ড্রেসিংরুমে এখন কোচের বকাঝকা চলছে। কিন্তু ডাগআউটে যখন কার্লো আনচেলত্তির মতো মানুষ দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন চরম উত্তেজনার মুহূর্তেও স্নায়ু শান্ত রাখার দারুণ কৌশল দেখা যায়।

ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট জাপানের জমাট ৫-৪-১ ফর্মেশনের সামনে রীতিমতো ধুঁকছিল ব্রাজিল। ব্রুনো গিমারেস যেমনটা বলছিলেন, মাঠে তারা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলার মতো একটু জায়গাও পাচ্ছিলেন না। তার ওপর আবার চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় লুকাস পাকেতাকে। তার বদলি হিসেবে নামেন তরুণ এনড্রিক। এই পরিবর্তনটাও ছিল একটু অস্বাভাবিক। কোচ মিডফিল্ডারকে উঠিয়ে নামিয়ে দিকেন একটা স্ট্রাইকারকে।

আনচেলত্তি নাকি ড্রেসিংরুমে গিয়ে খেলোয়াড়দের ওপর রাগ ঝাড়েননি। উল্টো তিনি দিলেন এক অদ্ভুত টোটকা—ধৈর্য ধরতে হবে, আবার আক্রমণের ধারও বাড়াতে হবে। তাই হয়তো পাকেতার জায়গায় এনড্রিককে নামানো! তিনি খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দিলেন, ফুটবলে ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক এবং আধুনিক ফুটবলে একটু ভুগে জয় পাওয়াটাও খেলারই অংশ।

কোচের এই শান্ত স্বভাব কীভাবে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস জোগায়, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ছিলেন ক্যাসেমিরো। ম্যাচের মাত্র ১৪ মিনিটেই হলুদ কার্ড দেখেছিলেন তিনি। প্রতিপক্ষ যখন জাপানের মতো গতিশীল দল, তখন কার্ড দেখা একজন মিডফিল্ডারকে মাঠে রাখা বেশ ঝুঁকির। আপনি হয়তো ভাববেন, অন্য যেকোনো কোচ হলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তাকে তুলে নিতেন। কিন্তু আনচেলত্তি ভরসা রাখলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই তারকার ওপর। সেই আস্থার নিখুঁত প্রতিদান ক্যাসেমিরো দিলেন ৫৬ মিনিটে, দারুণ এক হেডে গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে।

মার্তিনেল্লি

ম্যাথিউস কুনিয়ার মতে, দ্বিতীয়ার্ধে দলের খেলার মধ্যে একটা পরিষ্কার তাড়না ছিল। এই তাড়নাই গড়ে দিয়েছে ম্যাচের ভাগ্য। অবাক করা ব্যাপার হলো, ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ২-১ গোলের জয়ের পর, এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জিতে ফিরল ব্রাজিল। একদিকে গোলের জন্য মরিয়া তাড়না, অন্যদিকে চরম ধৈর্য। এই দুইয়ের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন আনচেলত্তি। উইঙ্গার রায়ানও একই কথা শোনালেন, ‘কোচ আমাদের শুধু ধৈর্য ধরতে বলেছিলেন। আমরা জানতাম, আমরা ঠিকই ঘুরে দাঁড়াব।’

এই জাদুকরী মন্ত্রের চূড়ান্ত রূপ দেখা গেল ম্যাচের যোগ করা সময়ে। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি যখন জয়সূচক গোলটি করলেন, তখন ব্রাজিলের পুরো বেঞ্চ আনন্দে ফেটে পড়েছে। কিন্তু আনচেলত্তি দাঁড়িয়ে রইলেন একদম শান্তভাবে, যেন খুব সাধারণ একটা ব্যাপার ঘটেছে! মার্তিনেল্লির ভাষায়, আনচেলত্তি একজন ‘অবাস্তব’ মানুষ। ড্রেসিংরুমে তার ওই শান্ত কণ্ঠস্বরই দলের স্নায়ুর চাপ কমিয়ে দিয়েছিল। কখন গোল আসবে সেটা নিয়ে না ভেবে, শুধু নিজেদের খেলার ওপর বিশ্বাস রাখাটাই যে আসল—সেই পুরোনো সত্যটাকেই আনচেলত্তি আরও একবার নতুনভাবে প্রমাণ করলেন।

আপনার মতামত জানান

মন্তব্যসমূহ

লগইন করা ব্যবহারকারীরা এই ব্লগে মন্তব্য করতে পারবেন।

লোড হচ্ছে
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।