Qazi Akash Logo
কাজী আকাশ

ব্রাজিলের হয়ে আর খেলতে পারবেন না নেইমার, ইঙ্গিত আনচেলত্তির

কাজী আকাশ•১ আগস্ট, ২০২৬•৪ মিনিট

হলুদ জার্সি, সাম্বার ছন্দ আর মাঠে জাদুকরী সব ড্রিবলিং; ব্রাজিল মানেই তো ফুটবলের এক অবিচ্ছেদ্য রোমাঞ্চ। কিন্তু সেই রোমাঞ্চে যদি হঠাৎ বিষাদের সুর বেজে ওঠে? যে খেলোয়াড়দের পায়ের জাদুতে গত এক দশক ধরে বুঁদ হয়ে ছিল পুরো ফুটবল বিশ্ব, তাঁদের যদি আর কখনোই ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে দেখা না যায়! হ্যাঁ, ঠিক এমনই এক হৃদয়বিদারক খবরের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবল দুনিয়া। বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে চরম হতাশা নিয়ে বিদায় নেওয়ার পর এবার খোদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি বাজিয়ে দিলেন দলটির সবচেয়ে বড় তারকাদের বিদায়ঘণ্টা।

ব্রাজিলের হয়ে শেষ হতে যাচ্ছে নেইমার অধ্যায়

এবারের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের হারটা ছিল ব্রাজিলিয়ানদের জন্য এক দুঃস্বপ্নের মতো। ১৯৯০ সালে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর এটাই সেলেসাওদের সবচেয়ে দ্রুত বিদায়। এই হতাশাজনক বিদায়ের তিন সপ্তাহের বেশি সময় পর ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রাজিল দলে একটি যুগের অবসান হতে যাচ্ছে।

ব্রাজিলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি মনে করি এই বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একটি প্রজন্মের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। নেইমারকে দিয়ে শুরু, এরপর দানিলো এবং কাসেমিরো—এই বিশ্বকাপে খেলা ত্রিশোর্ধ্ব সব খেলোয়াড়ই এই তালিকায় আছেন।’

আনচেলত্তির চোখ এখন ভবিষ্যতের দিকে। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, তাঁদের লক্ষ্য শুধু ২০৩০ বিশ্বকাপ নয়, বরং তার আগে তাঁদের মূল মনোযোগ ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকার দিকে। আর সেই মঞ্চের জন্যই এখন নতুন প্রজন্মের লড়াকু খেলোয়াড় খুঁজছেন তিনি।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে আপনি দেখবেন, ৩৪ বছর বয়সী কাসেমিরো এবং ৩৫ বছর বয়সী দানিলো এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিটি ম্যাচেই মাঠে ছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে তাঁদের ম্যাচ সংখ্যা যথাক্রমে ৯১ এবং ৭৫। অন্যদিকে, কাফ ইনজুরির সঙ্গে লম্বা লড়াইয়ের পর ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে ফিরেছিলেন নেইমার। টুর্নামেন্টের আগে সান্তোসের হয়ে মাত্র ১৫টি ম্যাচ খেলা নেইমারকে দলে নেওয়া এবং তাঁর ফিটনেস নিয়ে বেশ বিতর্কও হয়েছিল।

দলের সঙ্গে আর দেখা যাবে না অভিজ্ঞ কাসেমিরোকে

তবে সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ১৩০ ম্যাচ খেলা নেইমার নিজেই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সান্তোসের হয়ে ভেনেজুয়েলার ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের পর ইএসপিএনকে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় জাতীয় দলের হয়ে আমার সময়টা পার হয়ে গেছে। আমি সেখানে ইতিহাস গড়েছি, আর এ নিয়ে আমি ভীষণ খুশি। সেখানে আমি অনেক কিছু দেখেছি, হলুদ জার্সির জন্য আমি নিজের রক্ত-ঘাম এক করেছি, সবসময় লড়াই করেছি। কিন্তু আমার মনে হয় না, আমি আর এগোতে চাই।’

তবে কি আনচেলত্তি পুরো দলটাই রাতারাতি খোলনলচে পাল্টে ফেলবেন? ড্রেসিংরুমের ভারসাম্য ধরে রাখতে কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে তিনি ঠিকই রেখে দিতে চান। আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি বলছি না যে আমি স্কোয়াডের ২৬ জনকেই বদলে ফেলব। আমরা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে রেখে দেব, যারা আমাদের এই নতুন যাত্রায় কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। উদাহরণ হিসেবে আমি মার্কিনহোসের কথা বলতে পারি। তার মতো খেলোয়াড়দের দলে থাকাটা জরুরি, যাতে আমাদের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। তবে মূল ভাবনাটা হলো পরিবর্তন আনা এবং নতুন একটি প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটানো।’

সাম্বার দেশে এখন পালাবদলের হাওয়া। নেইমার-কাসেমিরোদের মতো রথী-মহারথীদের ফেলে আসা বিশাল শূন্যস্থান পূরণ করে কার্লো আনচেলত্তি কীভাবে নতুন এক অপরাজেয় ব্রাজিল দল গড়ে তোলেন, সেটাই এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়!

আপনার মতামত জানান

মন্তব্যসমূহ

লগইন করা ব্যবহারকারীরা এই ব্লগে মন্তব্য করতে পারবেন।

লোড হচ্ছে
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।